সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়ল ৪ টাকা

দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়িয়ে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৯ টাকা, যা আগে ছিল ১৯৫ টাকা। আর পাঁচ লিটারের বোতল এখন বিক্রি হবে ৯৭৫ টাকায়। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৮০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া পাম অয়েলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজারমূল্য পর্যালোচনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ ঘোষণা দেন। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভোজ্যতেল শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিফাইনার ও আমদানিকারকদের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক প্রতিকূল অবস্থার কারণে বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়েছে, উৎসে দাম বেড়েছে। যেসব জিনিসে আমরা আমদানিনির্ভর, সেসব জিনিসের দাম যদি উৎসে বাড়ে, স্বাভাবিকভাবেই আমদানি মূল্যের ওপরও সেটার চাপ পড়ে, অভিঘাত আসে। সে কারণে আমাদের এখানে যারা সয়াবিন তেল আমদানিকারক, সয়াবিন তো আর আমাদের দেশে হয় না, পুরোটাই বাইরে থেকে আসে। সয়াবিন তেল যারা আমদানি করেন, উৎসে মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানি মূল্যের ওপর সেটার প্রভাব পড়েছে। এ প্রভাব পড়েছে আসলে রোজার সময় থেকে।’

তিনি বলেন, ‘ওই সময় থেকেই আমদানিকারক ও রিফাইনাররা ক্রমাগতভাবে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন মূল্য সমন্বয় করার জন্য। আমরা উৎসের মূল্য বারবার যাচাই ও আমদানির প্রক্রিয়ায় যে ধরনের বাড়তি খরচ যোগ হয় তা একসঙ্গে করে দেখেছি তাদের কথার মধ্যে যথার্থতা আছে। তার পরও তারা যে পরিমাণ অনুরোধ করেছেন, সে অনুরোধ পুরোপুরি রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। আশা করি আমাদের যারা ভোক্তা আছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির বিষয়টা তারা বিবেচনা করবেন।’

এ সমন্বয় ব্যবসায়ীদের লোকসানের বোঝা লাঘবে সহায়ক হবে এবং বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতিও আগামী দিন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

দেশের শীর্ষ ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘গত অক্টোবর-নভেম্বর থেকে আমরা এ সমন্বয়ের কথাটা বলে আসছি। গত ছয় মাস থেকে এটা আসলে অনেক লং ডিলে। এখানে অ্যাডজাস্টমেন্টের ন্যায্যতা অনেক আগে থেকেই ছিল। মন্ত্রীও চেষ্টা করছেন। সরকারপ্রধানও এ ব্যাপারে কনসার্ন। যেটা (দাম বাড়ানো) হয়েছে অত্যন্ত মিনিমাম, কিন্তু আমাদের অ্যাডজাস্টমেন্টটা পুরোপুরি হয়নি। তার পরও মন্ত্রী যেখানে বলেছেন আমরা সে জিনিসটাই মেনে নিচ্ছি।’

এ ব্যবসায়ী আরো বলেন, ‘বাণিজ্যমন্ত্রী যেটা বলেছেন আমাদের জন্য এটা হুকুম, আমরা এ দাম ঈদ পর্যন্ত চালিয়ে নেব। এখন এ ব্যাপারে আর আমাদের বলার কিছু নেই। ঈদের পর সরকার নিশ্চয়ই মূল্য সমন্বয়টা ভেবে দেখবে। আজকের পৃথিবী সব ওপেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি কোথায় কী দাম, তাতে ডিউটি যোগ হবে, ভ্যালুয়েশন কী হচ্ছে, প্রসেস লস কী হচ্ছে। এখানে কোনো কিছু হাইড অ্যান্ড সিক করার কিছু নেই। নিশ্চয়ই এ জিনিসটা ওনারা বিচার করবেন।’

সরবরাহ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা তো উল্লেখ করছি যে সামনে ঈদ আসছে। আমরা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম অয়েলটা দ্রুত নিয়ে আসব। আর সয়াবিনও অনেকেরই বুকিং আছে, বাকিটাও এখন বুকিং বাড়বে। হয়তো সয়াবিন এখন বুকিং দিয়ে সেটা ঈদের আগে ধরতে পারব না। এরই মধ্যে আমাদের যে বুকিংগুলো আছে আশা করি সেখানে সমস্যা হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

আরও